দীর্ঘমেয়াদে ETF-তে বিনিয়োগ করলেও কম সহসম্পর্কের কৌশল কেন বিবেচনা করবেন?
দীর্ঘমেয়াদে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ETF) বিনিয়োগ শেয়ারবাজারের প্রবৃদ্ধি থেকে লাভবান হওয়ার একটি কার্যকর উপায়। তবে একটি ETF-ভিত্তিক পোর্টফোলিওতে কয়েক ডজন কিংবা কয়েক শ কোম্পানির শেয়ার থাকলেও বাজারে বড় সংকট দেখা দিলে তার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু «কীভাবে আরও বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়?»—এই প্রশ্নের পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে: আমার পোর্টফোলিও কি শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে?
এখানেই ভিন্ন উৎস থেকে রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা এবং বিশেষ করে কম সহসম্পর্কযুক্ত বিনিয়োগ কৌশল নিয়ে ভাবার প্রয়োজন দেখা দেয়।
ধরা যাক, একটি ETF যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ার অনুসরণ করে এবং আরেকটি ETF প্রযুক্তি খাতের শেয়ার অনুসরণ করে। দুটি ফান্ডের সূচক আলাদা হলেও একই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বাজারে দরপতনের সময় দুটিই একসঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
একাধিক ETF রাখা মানেই রিটার্নের একাধিক স্বাধীন উৎস তৈরি করা নয়।
ইতিহাস বলছে, বিস্তৃতভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ ইকুইটি ETF-ও বড় বাজার সংকটের সময় 50%-এর বেশি দরপতনের মুখে পড়েছে।
উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক দরপতনের সময়কাল: SPY (2007–2009), QQQ (2000–2002), VOO (2020) এবং তাইওয়ান 0050 (2008)।
তথ্য সম্পর্কে: চার্টে প্রতিটি ETF চালু হওয়ার পর থেকে রেকর্ড করা আনুমানিক সর্বোচ্চ ড্রডাউন দেখানো হয়েছে। ফান্ডগুলোর পর্যবেক্ষণের সময়কাল এক নয়। লভ্যাংশের সমন্বয়, তথ্য সংগ্রহের ব্যবধান ও হিসাবের পদ্ধতি অনুযায়ী ফলাফলও ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু এই সংখ্যাগুলো দিয়ে কোন ETF বেশি বা কম ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।
একটি ETF চালু হওয়ার পর যতটা বড় দরপতন দেখেছে, সেটিই যে তার অনুসরণ করা বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন, তা নয়।
উদাহরণ হিসেবে VOO-কে ধরা যাক। ফান্ডটি 2010 সালে চালু হওয়ায় 2008 সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যায়নি। অথচ VOO যে S&P 500 সূচক অনুসরণ করে, সেই সূচক ওই সংকটের সময় আরও গভীর দরপতনের সম্মুখীন হয়েছিল। তুলনামূলক পুরোনো SPY ফান্ড বা S&P 500 সূচকের ঐতিহাসিক তথ্য থেকে সেই সময়ের চিত্র বোঝা যায়।
তাইওয়ান 0050-এর ক্ষেত্রেও একই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফান্ডটি 2003 সালে চালু হয়েছে। ফলে এর প্রকৃত পারফরম্যান্সের ইতিহাসে তাইওয়ানের আরও আগের বড় মন্দার সময়গুলো নেই। যেমন, 1990 সালে তাইওয়ানের শেয়ারবাজারে তৈরি হওয়া বুদ্বুদ ভেঙে পড়ার পর দেশটির বাজারমূলধনভিত্তিক প্রধান সূচক TAIEX প্রায় 80% কমেছিল। তবে এটি সামগ্রিক বাজারসূচকের ঐতিহাসিক পতন; তাইওয়ান 0050-এর প্রকৃত বা অনুমানভিত্তিক ড্রডাউন নয়।
এ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার হয়: কোনো ফান্ডের ট্র্যাক রেকর্ড তুলনামূলক ছোট এবং সেটি অতীতের বড় সংকটগুলো দেখেনি বলেই ভবিষ্যতে তার বাজারঝুঁকি কম হবে, এমন নয়।
তাই ETF-এর ঝুঁকি মূল্যায়নের সময় শুধু ফান্ডটির নিজস্ব ইতিহাস দেখলে চলবে না। এটি যে বাজার বা সূচক অনুসরণ করে, দীর্ঘ সময় ধরে সেই বাজারের আচরণও বোঝা দরকার।
এর অর্থ এই নয় যে দীর্ঘমেয়াদে ETF-তে বিনিয়োগের গুরুত্ব কমে যায়। বরং বিষয়টি মনে করিয়ে দেয়: দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন পাওয়া এবং সেই রিটার্নের পথে কত বড় ক্ষতি সহ্য করতে হয়েছে—দুটি আলাদা বিষয়।
বিশেষ করে অবসরের কাছাকাছি থাকা, নিয়মিত বিনিয়োগ থেকে অর্থ তোলার পরিকল্পনা করা কিংবা বড় পোর্টফোলিও পরিচালনা করা বিনিয়োগকারীদের জন্য গভীর দরপতন শুধু কাগুজে ক্ষতি নয়। এটি আর্থিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই প্রশ্ন হলো: রিটার্নের ভিন্ন উৎস যুক্ত করলে কি পোর্টফোলিওর শেয়ারবাজারনির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব?
বিনিয়োগ বিশ্লেষণে সহসম্পর্কের সহগ -1 থেকে +1-এর মধ্যে থাকে। বিষয়টি 3টি পরিস্থিতি দিয়ে বোঝা যায়:
কম সহসম্পর্ক আর ঋণাত্মক সহসম্পর্ক এক বিষয় নয়।
ETF বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল মানেই «শেয়ারবাজার পড়লে এই কৌশল লাভ করবে»—এমন নয়। এর অর্থ হলো, কৌশলটির রিটার্ন সব সময় শেয়ারবাজারের গতিপথ অনুসরণ করে না।
শেয়ারবাজার ও কোনো পরিমাণগত বা কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং কৌশলের ঐতিহাসিক সহসম্পর্ক শূন্যের কাছাকাছি হলেও একই সময়ে উভয় ক্ষেত্রেই লোকসান হতে পারে। একইভাবে অতীতে ঋণাত্মক সহসম্পর্ক থাকলেই প্রতিটি বাজারধসে সুরক্ষা পাওয়া নিশ্চিত নয়।
এখানে সম্ভাব্য সুবিধা হলো, সব সময় একসঙ্গে ওঠানামা করে না—এমন একাধিক রিটার্নের উৎসকে একই পোর্টফোলিওতে রাখা। কোনো একটি বিনিয়োগ অন্যটির সব ক্ষতি পুষিয়ে দেবে, এমন প্রত্যাশা করা নয়।
ধরা যাক, একটি পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগের জন্য 2টি বিকল্প রয়েছে:
পুরো অর্থ ইকুইটি ETF-তে রাখলে পোর্টফোলিওর বার্ষিকীকৃত অস্থিরতা হবে 20%।
কিন্তু এই অনুমান অনুযায়ী, 80% ETF ও 20% বিকল্প কৌশলে বিনিয়োগ করলে অস্থিরতা কমে প্রায় 16.3% হতে পারে। আর 60% ETF ও 40% বিকল্প কৌশলের সমন্বয়ে তা আরও কমে প্রায় 13.4% হতে পারে।
প্রশ্ন হলো, নিজেও ঝুঁকিপূর্ণ এমন আরেকটি বিনিয়োগ যোগ করলে পুরো পোর্টফোলিওর অস্থিরতা কমে কীভাবে?
কারণ পোর্টফোলিওর মোট ঝুঁকি শুধু প্রতিটি বিনিয়োগের আলাদা ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে না; সেগুলোর রিটার্ন একে অপরের সঙ্গে কীভাবে ওঠানামা করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
দুটি বিনিয়োগের রিটার্ন একই সময়ে একইভাবে না বদলালে একটির কিছু ওঠানামা অন্যটির বিপরীত গতিবিধির কারণে আংশিকভাবে ভারসাম্য পেতে পারে। ফলে পুরো পোর্টফোলিওর মূল্য তুলনামূলক কম ওঠানামা করতে পারে।
কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল নিয়ে গবেষণার মূল যুক্তি এখানেই।
তবে চার্টের সংখ্যাগুলো নির্দিষ্ট অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি একটি গাণিতিক উদাহরণ, কোনো বাস্তব কৌশলের পারফরম্যান্স নয়। অস্থিরতা কমলেই সর্বোচ্চ ড্রডাউন কমবে বা রিটার্ন বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
আসল মূল্যায়ন হলো, নতুন কৌশলটি যুক্ত করার পর রিটার্ন, ফি, লেনদেনের খরচ ও ঝুঁকি বিবেচনায় পুরো পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীর লক্ষ্য পূরণে আরও উপযোগী হচ্ছে কি না।
লক্ষ্য সব সময় সর্বোচ্চ রিটার্ন দেওয়া একটি বিনিয়োগ খুঁজে পাওয়া নয়; বরং রিটার্নের বিভিন্ন উৎসকে কার্যকরভাবে একসঙ্গে ব্যবহার করা।
ধরা যাক, একটি পোর্টফোলিওর মূল্য 1 কোটি থেকে কমে 80 লাখ হলো। অর্থাৎ ক্ষতি 20%। কিন্তু 80 লাখ থেকে আবার 1 কোটিতে ফিরতে 20% নয়, 25% লাভ প্রয়োজন।
10% ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রায় 11.1% লাভ প্রয়োজন। 30% ক্ষতির পর আগের মূল্যে ফিরতে প্রয়োজন প্রায় 42.9% লাভ। আর পোর্টফোলিওর মূল্য 50% কমে গেলে আগের অবস্থায় ফিরতে সেটিকে 100% বাড়তে হবে—অর্থাৎ দ্বিগুণ হতে হবে।
ড্রডাউন যত গভীর হয়, ক্ষতি পুষিয়ে আগের অবস্থায় ফিরতে প্রয়োজনীয় রিটার্নও তত বেড়ে যায়।
প্রথম অংশে আলোচিত ETF-গুলোর ঐতিহাসিক দরপতনের দিকে আবার তাকালে বিষয়টির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। কোনো বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দিলেও মাঝপথের বড় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ তুলতে হয় বা আর্থিক দায় মেটাতে হয়, তাঁদের জন্য দীর্ঘ পুনরুদ্ধারকাল বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তাই দীর্ঘমেয়াদি পোর্টফোলিও পরিচালনা শুধু বেশি রিটার্নের পেছনে ছোটা নয়। সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ এবং তার প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হয়।
যুক্তিসংগত রিটার্ন অর্জনের পাশাপাশি ড্রডাউনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
রিটার্নের ভিন্ন উৎস খুঁজে দেখার এটিও একটি কারণ। কোনো কৌশল কখনোই লোকসান করবে না, এমন নয়; বরং উপযুক্ত সমন্বয় পোর্টফোলিওকে একটি নির্দিষ্ট বাজারঝুঁকির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা করতে পারে।
শুধু প্রচারিত বার্ষিক রিটার্ন নয়, আগে দেখুন যাচাইযোগ্য লাইভ ট্রেডিংয়ের ফলাফল।
Myfxbook-এর মতো তৃতীয় পক্ষের ট্রেডিং পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ট্রেডের ইতিহাস ও পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান দেখতে পারেন। এতে বাস্তব বাজারে কৌশলটির রিটার্ন ও ঝুঁকির একটি ভালো ধারণা পাওয়া যায়।
তবে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ট্রেডিং রেকর্ড যাচাই করা আর স্বাধীন আর্থিক নিরীক্ষা এক বিষয় নয়। এ ধরনের যাচাই ভবিষ্যতের ফলাফলের নিশ্চয়তাও দেয় না।
লাইভ ট্রেডিংয়ের তথ্য বাস্তব লেনদেনের সরাসরি প্রমাণ দেয়। তবে অতীতের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের ফলাফলের নিশ্চয়তা নয়।
প্রকাশিত পারফরম্যান্সে ব্যাকটেস্ট বা সিমুলেশনের ফলাফল অন্তর্ভুক্ত থাকলে সেগুলোকে প্রকৃত লাইভ ট্রেডিংয়ের ফলাফল থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা দেখানো উচিত।
যাঁদের পোর্টফোলিওতে ইতিমধ্যে ETF রয়েছে, তাঁদের জন্য নতুন কৌশল মূল্যায়নের উদ্দেশ্য শুধু সবচেয়ে বেশি রিটার্ন খোঁজা নয়। বরং গ্রহণযোগ্য ঝুঁকির মধ্যে থেকে কৌশলটি রিটার্নের একটি কার্যকর বিকল্প উৎস যোগ করতে পারবে কি না, তা বোঝা।
আপনার বর্তমান বিনিয়োগ যদি লক্ষ্য, ঝুঁকি সহ্য করার ক্ষমতা এবং প্রয়োজনের সময় অর্থ হাতে পাওয়ার চাহিদা পূরণ করে, তাহলে বিদ্যমান বিনিয়োগ বণ্টন বজায় রাখাও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তবে পোর্টফোলিওর আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি প্রশ্ন করা উপকারী:
শুধু কম সহসম্পর্ক থাকাই কোনো কৌশলে বিনিয়োগ করার যথেষ্ট কারণ নয়।
নতুন কৌশলের সম্ভাব্য রিটার্ন, ঝুঁকি এবং বাস্তব শর্তগুলো বিনিয়োগকারীর সামগ্রিক আর্থিক লক্ষ্য ও সীমাবদ্ধতার সঙ্গে মানানসই হলেই তা বিবেচনার যোগ্য।
বরং মূল প্রশ্নটি হলো:
«আমার পোর্টফোলিও কি একই ধরনের বাজারভিত্তিক রিটার্নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল? ভিন্ন কোনো কৌশল যোগ করলে কি দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য বজায় রেখে ঝুঁকি আরও ভালোভাবে সামলানো সম্ভব?»
যাঁদের ইতিমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ETF বিনিয়োগ রয়েছে, তাঁদের জন্য ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ ড্রডাউন, রিটার্নের সহসম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ বণ্টনের প্রভাব বোঝা আরও কার্যকর পোর্টফোলিও গঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ।
কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল নিয়ে গবেষণার সময় 3টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিন:
কোয়ান্টিটেটিভ কৌশল নিয়ে গবেষণা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বণ্টন বিষয়ে আলোচনা করতে আমরা আগ্রহী, যাতে বিনিয়োগকারীরা আরও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ভালো পোর্টফোলিও গঠন শুধু রিটার্ন অর্জনের বিষয় নয়; দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য পূরণের পথে ঝুঁকি সামলানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু «কীভাবে আরও বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়?»—এই প্রশ্নের পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে: আমার পোর্টফোলিও কি শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে?
এখানেই ভিন্ন উৎস থেকে রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা এবং বিশেষ করে কম সহসম্পর্কযুক্ত বিনিয়োগ কৌশল নিয়ে ভাবার প্রয়োজন দেখা দেয়।
1. ETF বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেয়, কিন্তু বাজারের ঝুঁকি পুরোপুরি কমায় না
ইকুইটি ETF অল্প কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। কিন্তু পোর্টফোলিওর বড় অংশই যদি বিভিন্ন ইকুইটি ETF-তে থাকে, তাহলে সেটি সামগ্রিক শেয়ারবাজারের ওঠানামার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল থেকে যেতে পারে।ধরা যাক, একটি ETF যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ার অনুসরণ করে এবং আরেকটি ETF প্রযুক্তি খাতের শেয়ার অনুসরণ করে। দুটি ফান্ডের সূচক আলাদা হলেও একই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বাজারে দরপতনের সময় দুটিই একসঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
একাধিক ETF রাখা মানেই রিটার্নের একাধিক স্বাধীন উৎস তৈরি করা নয়।
জনপ্রিয় ETF-গুলোর ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ ড্রডাউন (MDD)
সর্বোচ্চ ড্রডাউন বা Maximum Drawdown (MDD) হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো বিনিয়োগের মূল্য আগের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে পরবর্তী সর্বনিম্ন অবস্থানে যতটা নেমেছে, তার সর্বোচ্চ হার।ইতিহাস বলছে, বিস্তৃতভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ ইকুইটি ETF-ও বড় বাজার সংকটের সময় 50%-এর বেশি দরপতনের মুখে পড়েছে।
উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক দরপতনের সময়কাল: SPY (2007–2009), QQQ (2000–2002), VOO (2020) এবং তাইওয়ান 0050 (2008)।
তথ্য সম্পর্কে: চার্টে প্রতিটি ETF চালু হওয়ার পর থেকে রেকর্ড করা আনুমানিক সর্বোচ্চ ড্রডাউন দেখানো হয়েছে। ফান্ডগুলোর পর্যবেক্ষণের সময়কাল এক নয়। লভ্যাংশের সমন্বয়, তথ্য সংগ্রহের ব্যবধান ও হিসাবের পদ্ধতি অনুযায়ী ফলাফলও ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু এই সংখ্যাগুলো দিয়ে কোন ETF বেশি বা কম ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।
একটি ETF চালু হওয়ার পর যতটা বড় দরপতন দেখেছে, সেটিই যে তার অনুসরণ করা বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন, তা নয়।
উদাহরণ হিসেবে VOO-কে ধরা যাক। ফান্ডটি 2010 সালে চালু হওয়ায় 2008 সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যায়নি। অথচ VOO যে S&P 500 সূচক অনুসরণ করে, সেই সূচক ওই সংকটের সময় আরও গভীর দরপতনের সম্মুখীন হয়েছিল। তুলনামূলক পুরোনো SPY ফান্ড বা S&P 500 সূচকের ঐতিহাসিক তথ্য থেকে সেই সময়ের চিত্র বোঝা যায়।
তাইওয়ান 0050-এর ক্ষেত্রেও একই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফান্ডটি 2003 সালে চালু হয়েছে। ফলে এর প্রকৃত পারফরম্যান্সের ইতিহাসে তাইওয়ানের আরও আগের বড় মন্দার সময়গুলো নেই। যেমন, 1990 সালে তাইওয়ানের শেয়ারবাজারে তৈরি হওয়া বুদ্বুদ ভেঙে পড়ার পর দেশটির বাজারমূলধনভিত্তিক প্রধান সূচক TAIEX প্রায় 80% কমেছিল। তবে এটি সামগ্রিক বাজারসূচকের ঐতিহাসিক পতন; তাইওয়ান 0050-এর প্রকৃত বা অনুমানভিত্তিক ড্রডাউন নয়।
এ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার হয়: কোনো ফান্ডের ট্র্যাক রেকর্ড তুলনামূলক ছোট এবং সেটি অতীতের বড় সংকটগুলো দেখেনি বলেই ভবিষ্যতে তার বাজারঝুঁকি কম হবে, এমন নয়।
তাই ETF-এর ঝুঁকি মূল্যায়নের সময় শুধু ফান্ডটির নিজস্ব ইতিহাস দেখলে চলবে না। এটি যে বাজার বা সূচক অনুসরণ করে, দীর্ঘ সময় ধরে সেই বাজারের আচরণও বোঝা দরকার।
এর অর্থ এই নয় যে দীর্ঘমেয়াদে ETF-তে বিনিয়োগের গুরুত্ব কমে যায়। বরং বিষয়টি মনে করিয়ে দেয়: দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন পাওয়া এবং সেই রিটার্নের পথে কত বড় ক্ষতি সহ্য করতে হয়েছে—দুটি আলাদা বিষয়।
বিশেষ করে অবসরের কাছাকাছি থাকা, নিয়মিত বিনিয়োগ থেকে অর্থ তোলার পরিকল্পনা করা কিংবা বড় পোর্টফোলিও পরিচালনা করা বিনিয়োগকারীদের জন্য গভীর দরপতন শুধু কাগুজে ক্ষতি নয়। এটি আর্থিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই প্রশ্ন হলো: রিটার্নের ভিন্ন উৎস যুক্ত করলে কি পোর্টফোলিওর শেয়ারবাজারনির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব?
2. কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশলের আকর্ষণ এই নয় যে এটি পরবর্তী বাজারধসের সময় বলে দিতে পারে। বরং এর সম্ভাব্য সুবিধা হলো শেয়ারের দাম বাড়ার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করেও রিটার্নের একটি উৎস তৈরি করা।কম সহসম্পর্ক ও ঋণাত্মক সহসম্পর্কের পার্থক্য কী?
সহজভাবে বললে, দুটি বিনিয়োগের রিটার্ন কতটা একইভাবে ওঠানামা করে, সেটিই সহসম্পর্ক বা Correlation দিয়ে বোঝানো হয়।বিনিয়োগ বিশ্লেষণে সহসম্পর্কের সহগ -1 থেকে +1-এর মধ্যে থাকে। বিষয়টি 3টি পরিস্থিতি দিয়ে বোঝা যায়:
- ধনাত্মক সহসম্পর্ক (+1-এর কাছাকাছি): দুটি বিনিয়োগের রিটার্ন সাধারণত একই দিকে চলে। অর্থাৎ একটি বাড়লে অন্যটিও বাড়তে এবং একটি কমলে অন্যটিও কমতে পারে।
- কম সহসম্পর্ক (0-এর কাছাকাছি): দুটি বিনিয়োগের রিটার্নের মধ্যে স্থায়ী ও স্পষ্ট সরলরৈখিক সম্পর্ক নেই। একটি বাড়লে অন্যটি বাড়তেও পারে, কমতেও পারে, আবার প্রায় অপরিবর্তিতও থাকতে পারে।
- ঋণাত্মক সহসম্পর্ক (-1-এর কাছাকাছি): দুটি বিনিয়োগের রিটার্ন সাধারণত বিপরীত দিকে চলে। একটি বাড়লে অন্যটি কমার প্রবণতা দেখা যায়।
কম সহসম্পর্ক আর ঋণাত্মক সহসম্পর্ক এক বিষয় নয়।
ETF বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল মানেই «শেয়ারবাজার পড়লে এই কৌশল লাভ করবে»—এমন নয়। এর অর্থ হলো, কৌশলটির রিটার্ন সব সময় শেয়ারবাজারের গতিপথ অনুসরণ করে না।
শেয়ারবাজার ও কোনো পরিমাণগত বা কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং কৌশলের ঐতিহাসিক সহসম্পর্ক শূন্যের কাছাকাছি হলেও একই সময়ে উভয় ক্ষেত্রেই লোকসান হতে পারে। একইভাবে অতীতে ঋণাত্মক সহসম্পর্ক থাকলেই প্রতিটি বাজারধসে সুরক্ষা পাওয়া নিশ্চিত নয়।
এখানে সম্ভাব্য সুবিধা হলো, সব সময় একসঙ্গে ওঠানামা করে না—এমন একাধিক রিটার্নের উৎসকে একই পোর্টফোলিওতে রাখা। কোনো একটি বিনিয়োগ অন্যটির সব ক্ষতি পুষিয়ে দেবে, এমন প্রত্যাশা করা নয়।
কম সহসম্পর্ক কীভাবে পোর্টফোলিওর অস্থিরতা কমাতে পারে?
ধরা যাক, একটি পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগের জন্য 2টি বিকল্প রয়েছে:
- ইকুইটি ETF: বার্ষিকীকৃত অস্থিরতা 20%।
- বিকল্প ট্রেডিং কৌশল: বার্ষিকীকৃত অস্থিরতা 15% এবং ETF-এর সঙ্গে সহসম্পর্ক 0।
পুরো অর্থ ইকুইটি ETF-তে রাখলে পোর্টফোলিওর বার্ষিকীকৃত অস্থিরতা হবে 20%।
কিন্তু এই অনুমান অনুযায়ী, 80% ETF ও 20% বিকল্প কৌশলে বিনিয়োগ করলে অস্থিরতা কমে প্রায় 16.3% হতে পারে। আর 60% ETF ও 40% বিকল্প কৌশলের সমন্বয়ে তা আরও কমে প্রায় 13.4% হতে পারে।
প্রশ্ন হলো, নিজেও ঝুঁকিপূর্ণ এমন আরেকটি বিনিয়োগ যোগ করলে পুরো পোর্টফোলিওর অস্থিরতা কমে কীভাবে?
কারণ পোর্টফোলিওর মোট ঝুঁকি শুধু প্রতিটি বিনিয়োগের আলাদা ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে না; সেগুলোর রিটার্ন একে অপরের সঙ্গে কীভাবে ওঠানামা করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
দুটি বিনিয়োগের রিটার্ন একই সময়ে একইভাবে না বদলালে একটির কিছু ওঠানামা অন্যটির বিপরীত গতিবিধির কারণে আংশিকভাবে ভারসাম্য পেতে পারে। ফলে পুরো পোর্টফোলিওর মূল্য তুলনামূলক কম ওঠানামা করতে পারে।
কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল নিয়ে গবেষণার মূল যুক্তি এখানেই।
তবে চার্টের সংখ্যাগুলো নির্দিষ্ট অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি একটি গাণিতিক উদাহরণ, কোনো বাস্তব কৌশলের পারফরম্যান্স নয়। অস্থিরতা কমলেই সর্বোচ্চ ড্রডাউন কমবে বা রিটার্ন বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
আসল মূল্যায়ন হলো, নতুন কৌশলটি যুক্ত করার পর রিটার্ন, ফি, লেনদেনের খরচ ও ঝুঁকি বিবেচনায় পুরো পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীর লক্ষ্য পূরণে আরও উপযোগী হচ্ছে কি না।
লক্ষ্য সব সময় সর্বোচ্চ রিটার্ন দেওয়া একটি বিনিয়োগ খুঁজে পাওয়া নয়; বরং রিটার্নের বিভিন্ন উৎসকে কার্যকরভাবে একসঙ্গে ব্যবহার করা।
3. দীর্ঘমেয়াদি রিটার্নের পাশাপাশি ড্রডাউন নিয়ন্ত্রণও জরুরি
বিনিয়োগ মূল্যায়নে বার্ষিকীকৃত রিটার্ন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু এই সংখ্যা দেখলে একটি মৌলিক প্রশ্ন আড়ালে থেকে যায়: বড় লোকসানের পর আগের অবস্থায় ফিরতে কতটা লাভ করতে হবে?ধরা যাক, একটি পোর্টফোলিওর মূল্য 1 কোটি থেকে কমে 80 লাখ হলো। অর্থাৎ ক্ষতি 20%। কিন্তু 80 লাখ থেকে আবার 1 কোটিতে ফিরতে 20% নয়, 25% লাভ প্রয়োজন।
ক্ষতি যত বড়, তা পুষিয়ে ওঠা তত কঠিন
10% ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রায় 11.1% লাভ প্রয়োজন। 30% ক্ষতির পর আগের মূল্যে ফিরতে প্রয়োজন প্রায় 42.9% লাভ। আর পোর্টফোলিওর মূল্য 50% কমে গেলে আগের অবস্থায় ফিরতে সেটিকে 100% বাড়তে হবে—অর্থাৎ দ্বিগুণ হতে হবে।
ড্রডাউন যত গভীর হয়, ক্ষতি পুষিয়ে আগের অবস্থায় ফিরতে প্রয়োজনীয় রিটার্নও তত বেড়ে যায়।
প্রথম অংশে আলোচিত ETF-গুলোর ঐতিহাসিক দরপতনের দিকে আবার তাকালে বিষয়টির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। কোনো বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দিলেও মাঝপথের বড় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ তুলতে হয় বা আর্থিক দায় মেটাতে হয়, তাঁদের জন্য দীর্ঘ পুনরুদ্ধারকাল বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তাই দীর্ঘমেয়াদি পোর্টফোলিও পরিচালনা শুধু বেশি রিটার্নের পেছনে ছোটা নয়। সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ এবং তার প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হয়।
যুক্তিসংগত রিটার্ন অর্জনের পাশাপাশি ড্রডাউনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
রিটার্নের ভিন্ন উৎস খুঁজে দেখার এটিও একটি কারণ। কোনো কৌশল কখনোই লোকসান করবে না, এমন নয়; বরং উপযুক্ত সমন্বয় পোর্টফোলিওকে একটি নির্দিষ্ট বাজারঝুঁকির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা করতে পারে।
4. কোয়ান্টিটেটিভ কৌশলের প্রকৃত ট্রেডিং পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবেন কীভাবে?
সহসম্পর্ক ও ড্রডাউনের গুরুত্ব বোঝার পর পরবর্তী ধাপ হলো, কোনো কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং কৌশল আপনার পোর্টফোলিওতে যুক্ত করা যুক্তিযুক্ত কি না, তা নির্ধারণ করা।শুধু প্রচারিত বার্ষিক রিটার্ন নয়, আগে দেখুন যাচাইযোগ্য লাইভ ট্রেডিংয়ের ফলাফল।
Myfxbook-এর মতো তৃতীয় পক্ষের ট্রেডিং পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ট্রেডের ইতিহাস ও পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান দেখতে পারেন। এতে বাস্তব বাজারে কৌশলটির রিটার্ন ও ঝুঁকির একটি ভালো ধারণা পাওয়া যায়।
তবে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ট্রেডিং রেকর্ড যাচাই করা আর স্বাধীন আর্থিক নিরীক্ষা এক বিষয় নয়। এ ধরনের যাচাই ভবিষ্যতের ফলাফলের নিশ্চয়তাও দেয় না।
শুধু লাভ নয়, পুরো ট্রেডিং রেকর্ড দেখুন
কোনো কোয়ান্টিটেটিভ কৌশল মূল্যায়নে বিশেষভাবে 4টি বিষয় দেখুন:- লাইভ ট্রেডিংয়ের ইতিহাস: কৌশলটি বাস্তব বাজারে কত দিন ধরে চলছে? বিভিন্ন ধরনের বাজার পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে কি?
- রিটার্ন ও সর্বোচ্চ ড্রডাউন: ঐতিহাসিক রিটার্ন অর্জনের পথে কৌশলটি কত বড় দরপতন বা ক্ষতির মুখে পড়েছে?
- লিভারেজ, ঝুঁকিপূর্ণ এক্সপোজার ও খরচ: কৌশলটিতে লিভারেজ ব্যবহৃত হয় কি? বড় খোলা পজিশন থাকে কি? কী কী ফি ও লেনদেনের খরচ রয়েছে?
- বিদ্যমান ETF-এর সঙ্গে সহসম্পর্ক: কৌশলটির রিটার্নের আচরণ কি সত্যিই আপনার বর্তমান পোর্টফোলিওর ঝুঁকি বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে সাহায্য করতে পারে?
লাইভ ট্রেডিংয়ের তথ্য বাস্তব লেনদেনের সরাসরি প্রমাণ দেয়। তবে অতীতের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের ফলাফলের নিশ্চয়তা নয়।
প্রকাশিত পারফরম্যান্সে ব্যাকটেস্ট বা সিমুলেশনের ফলাফল অন্তর্ভুক্ত থাকলে সেগুলোকে প্রকৃত লাইভ ট্রেডিংয়ের ফলাফল থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা দেখানো উচিত।
যাঁদের পোর্টফোলিওতে ইতিমধ্যে ETF রয়েছে, তাঁদের জন্য নতুন কৌশল মূল্যায়নের উদ্দেশ্য শুধু সবচেয়ে বেশি রিটার্ন খোঁজা নয়। বরং গ্রহণযোগ্য ঝুঁকির মধ্যে থেকে কৌশলটি রিটার্নের একটি কার্যকর বিকল্প উৎস যোগ করতে পারবে কি না, তা বোঝা।
5. ETF-এর পাশাপাশি অন্য বিনিয়োগ কৌশলও কি আপনার প্রয়োজন?
প্রত্যেক ETF বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে কোয়ান্টিটেটিভ কৌশল যুক্ত করার প্রয়োজন নেই।আপনার বর্তমান বিনিয়োগ যদি লক্ষ্য, ঝুঁকি সহ্য করার ক্ষমতা এবং প্রয়োজনের সময় অর্থ হাতে পাওয়ার চাহিদা পূরণ করে, তাহলে বিদ্যমান বিনিয়োগ বণ্টন বজায় রাখাও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তবে পোর্টফোলিওর আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি প্রশ্ন করা উপকারী:
- বাজারনির্ভরতা: আমার সম্পদের কতটা অংশ শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল?
- ড্রডাউন সহ্য করার ক্ষমতা: পোর্টফোলিওতে বড় দরপতন হলে অবসর পরিকল্পনা, নির্ধারিত সময়ে অর্থ তোলা বা অন্য আর্থিক লক্ষ্যে প্রভাব পড়বে কি?
- প্রমাণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: প্রস্তাবিত কৌশলটির যাচাইযোগ্য লাইভ ট্রেডিং রেকর্ড এবং বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আছে কি?
- পোর্টফোলিওতে প্রকৃত সুবিধা: ফি ও ঝুঁকি বিবেচনার পর কৌশলটি যোগ করলে সামগ্রিক বিনিয়োগ বণ্টনের সত্যিই উন্নতি হবে কি?
শুধু কম সহসম্পর্ক থাকাই কোনো কৌশলে বিনিয়োগ করার যথেষ্ট কারণ নয়।
নতুন কৌশলের সম্ভাব্য রিটার্ন, ঝুঁকি এবং বাস্তব শর্তগুলো বিনিয়োগকারীর সামগ্রিক আর্থিক লক্ষ্য ও সীমাবদ্ধতার সঙ্গে মানানসই হলেই তা বিবেচনার যোগ্য।
শেষ কথা: ETF রাখুন, তবে বৈচিত্র্যের সুযোগ আরও বিস্তৃতভাবে ভাবুন
অনেক বিনিয়োগকারীর জন্য দীর্ঘমেয়াদে ETF-তে বিনিয়োগ একটি কার্যকর পদ্ধতি। কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল নিয়ে ভাবার অর্থ এই নয় যে বিদ্যমান ETF বিক্রি করে দিতে হবে।বরং মূল প্রশ্নটি হলো:
«আমার পোর্টফোলিও কি একই ধরনের বাজারভিত্তিক রিটার্নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল? ভিন্ন কোনো কৌশল যোগ করলে কি দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য বজায় রেখে ঝুঁকি আরও ভালোভাবে সামলানো সম্ভব?»
যাঁদের ইতিমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ETF বিনিয়োগ রয়েছে, তাঁদের জন্য ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ ড্রডাউন, রিটার্নের সহসম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ বণ্টনের প্রভাব বোঝা আরও কার্যকর পোর্টফোলিও গঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ।
কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল নিয়ে গবেষণার সময় 3টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিন:
- যাচাইযোগ্য লাইভ পারফরম্যান্স: প্রকৃত ট্রেডিংয়ের ফলাফল, রেকর্ডের সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট খরচ পর্যালোচনা করুন।
- ঝুঁকি ও ড্রডাউনের ইতিহাস: বিভিন্ন বাজার পরিস্থিতিতে কৌশলটির আচরণ কেমন ছিল, তা বুঝুন।
- আপনার ETF-এর সঙ্গে সহসম্পর্ক: একই সময়কালের রিটার্নের তথ্য তুলনা করে দেখুন, কৌশলটি সত্যিই কার্যকর বৈচিত্র্য আনতে পারে কি না।
কোয়ান্টিটেটিভ কৌশল নিয়ে গবেষণা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বণ্টন বিষয়ে আলোচনা করতে আমরা আগ্রহী, যাতে বিনিয়োগকারীরা আরও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ভালো পোর্টফোলিও গঠন শুধু রিটার্ন অর্জনের বিষয় নয়; দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য পূরণের পথে ঝুঁকি সামলানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।