ব্রড মার্কেট ETF থাকার পরও কেন অন্য বিনিয়োগের কথা ভাববেন?

“আমার ETF-তে তো শত শত কোম্পানির শেয়ার আছে। তাহলে পোর্টফোলিওতে আবার অন্য বিনিয়োগ যোগ করার দরকার কী?”

প্রশ্নটি খুবই স্বাভাবিক।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্রড মার্কেট ETF সম্পদ গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম।

আলাদা করে প্রতিটি শেয়ার বেছে নেওয়ার পেছনে অনেক সময় ব্যয় না করেও এর মাধ্যমে সামগ্রিক শেয়ারবাজারের প্রবৃদ্ধিতে অংশ নেওয়া যায়। পাশাপাশি কোনো একটি কোম্পানির ব্যবসায়িক ব্যর্থতার কারণে বড় ক্ষতির ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনেক বিনিয়োগকারীর নজর এড়িয়ে যায়:

ETF আপনাকে নির্দিষ্ট কোম্পানির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু পুরো শেয়ারবাজার একসঙ্গে পড়ে গেলে আপনার পোর্টফোলিওকে কে সুরক্ষা দেবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে ‘সহসম্পর্ক’ বা Correlation বোঝা জরুরি।

প্রকৃত বৈচিত্র্যায়ন মানে শুধু বেশি সংখ্যক বিনিয়োগ রাখা নয়। বরং এমন বিনিয়োগ একসঙ্গে রাখা, যেগুলোর রিটার্ন ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে আসে।

এই আলোচনায় আমরা পরিচিত ETF ও বন্ড দিয়ে শুরু করব। এরপর ধনাত্মক, ঋণাত্মক এবং শূন্য সহসম্পর্কের পার্থক্য বুঝব। পাশাপাশি দেখব, শেয়ারবাজারের সঙ্গে কম সহসম্পর্কযুক্ত বিনিয়োগ কৌশল কীভাবে পোর্টফোলিওর ঝুঁকি ও রিটার্নের ভারসাম্য উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

1. শত শত শেয়ার থাকলেও কেন বাজারের ঝুঁকি দূর হয় না?

ধরা যাক, আপনি S&P 500 সূচক অনুসরণকারী একটি ETF-তে বিনিয়োগ করেছেন।

এর অর্থ, আপনার অর্থ একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে কেন্দ্রীভূত না থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে।

এ ধরনের বৈচিত্র্যায়নের অবশ্যই সুবিধা আছে।

কোনো কোম্পানির ব্যবসায় সমস্যা দেখা দিলে, আর্থিক ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ হলে কিংবা শেয়ারের দাম দ্রুত কমে গেলে, অন্য কোম্পানির ভালো পারফরম্যান্স সেই ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে দিতে পারে।

কিন্তু সমস্যা যদি একটি কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে?

যদি পুরো শেয়ারবাজারই পড়তে শুরু করে?

অর্থনৈতিক মন্দা, আর্থিক সংকট, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া মূল্যস্ফীতি কিংবা বিনিয়োগকারীদের একযোগে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রির কারণে শত শত শেয়ারের দাম একই সময়ে কমতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে শত শত কোম্পানির শেয়ার থাকা সত্ত্বেও একটি ETF উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

কারণটি হলো:

ETF নির্দিষ্ট কোম্পানির ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু সামগ্রিক বাজারের পদ্ধতিগত ঝুঁকি (Systematic Risk) পুরোপুরি দূর করতে পারে না।

আপনি অনেক আলাদা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলেও সেগুলো একই অর্থনৈতিক পরিবেশ ও বাজারের বিভিন্ন সাধারণ প্রভাবের আওতায় থাকে।

বিষয়টি এমন, যেন আপনি শত শত আলাদা ঝুড়িতে ডিম রেখেছেন, কিন্তু সব ঝুড়ি একই ট্রাকে তুলেছেন।

একটি ঝুড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সব ডিম নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে। কিন্তু পুরো ট্রাক উল্টে গেলে সব ঝুড়িই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
ব্রড মার্কেট ETF-তে শত শত কোম্পানির শেয়ার থাকলেও সামগ্রিক বাজার পতনের সময় পদ্ধতিগত ঝুঁকি থেকে যায়—কোম্পানিভিত্তিক ঝুঁকি ও বাজারের ঝুঁকির তুলনা।
পরিস্থিতি A দেখায়, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার রাখলে নির্দিষ্ট কোম্পানির ঝুঁকি কীভাবে কমে। অন্যদিকে পরিস্থিতি B দেখায়, সামগ্রিক বাজার পতনের সময় একই পদ্ধতিগত ঝুঁকির কারণে একটি ব্রড মার্কেট ETF-ও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তাই পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়নের পরবর্তী ধাপ সব সময় আরও শেয়ার কেনা নয়।

বরং প্রশ্ন করা:

শেয়ারবাজারের বাইরে আমার পোর্টফোলিওতে কি রিটার্নের অন্য কোনো উৎস আছে?

2. সম্পদের সহসম্পর্ক: কার্যকর পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়নের মূল চাবিকাঠি

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহসম্পর্ক বা Correlation বোঝায়, 2টি সম্পদের রিটার্ন কতটা একইভাবে পরিবর্তিত হয়।

এই সম্পর্কের দিক ও মাত্রা পরিমাপ করতে সহসম্পর্ক সহগ (Correlation Coefficient) ব্যবহার করা হয়। এটি 2টি সম্পদের রিটার্নের মধ্যকার রৈখিক সম্পর্ক নির্দেশ করে।

এর মান -1 থেকে +1 পর্যন্ত হতে পারে।

এই মানগুলো বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন কোনো বিনিয়োগ সত্যিই পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনছে, নাকি একই ধরনের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে, তা মূল্যায়নে সহসম্পর্ক সাহায্য করে।

ধনাত্মক সহসম্পর্ক: যখন বিনিয়োগগুলো একই দিকে চলে

সহসম্পর্ক সহগ +1-এর কাছাকাছি হলে 2টি সম্পদের রিটার্ন সাধারণত একই দিকে পরিবর্তিত হয়।

উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানির শেয়ারবাজার অনুসরণকারী 2টি ETF-এর কথা ভাবুন।

সেগুলোর নাম ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আলাদা হলেও, অন্তর্নিহিত বিনিয়োগের ধরন কাছাকাছি হওয়ায় পারফরম্যান্স প্রায় একই রকম হতে পারে।

ফলে অত্যন্ত ধনাত্মক সহসম্পর্কযুক্ত 2টি ETF একসঙ্গে রাখলে ফান্ডের সংখ্যা বাড়লেও বৈচিত্র্যায়নের সুবিধা খুব বেশি নাও বাড়তে পারে।

ঋণাত্মক সহসম্পর্ক: একটি বাড়লে অন্যটি কমার প্রবণতা

সহসম্পর্ক সহগ -1-এর কাছাকাছি হলে 2টি সম্পদের রিটার্ন বিপরীত দিকে পরিবর্তিত হওয়ার প্রবণতা দেখায়।

একটি বিনিয়োগের পারফরম্যান্স খারাপ হলে অন্যটির মূল্য বিপরীত দিকে যেতে পারে, যা কিছু ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে।

ইতিহাসে নির্দিষ্ট বাজার পরিস্থিতিতে কিছু শেয়ার ও সরকারি বন্ডের মধ্যে ঋণাত্মক সহসম্পর্ক দেখা গেছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় মনে রাখতে হবে:

শেয়ার ও বন্ডের মধ্যে সব সময় ঋণাত্মক সহসম্পর্ক থাকে না।

বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার দ্রুত বাড়লে শেয়ার এবং বন্ড—উভয়ের দাম একই সময়ে কমতে পারে।

তাই বন্ড শেয়ারবাজারের ঝুঁকি কতটা কমাতে পারবে, তা তৎকালীন অর্থনৈতিক ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

শূন্য সহসম্পর্ক: যখন রিটার্ন একই ধারা অনুসরণ করে না

সহসম্পর্ক সহগ 0-এর কাছাকাছি হলে 2টি সম্পদের রিটার্নের মধ্যে স্পষ্ট রৈখিক সম্পর্ক থাকে না।

উদাহরণস্বরূপ:
  • শেয়ারবাজার বাড়লেও কোনো ট্রেডিং কৌশলে লাভ বা ক্ষতি—দুটিই হতে পারে।
  • শেয়ারবাজার কমলে সেই কৌশলের রিটার্ন একইভাবে কমবে, এমন নয়।
  • কৌশলটির পারফরম্যান্স ভিন্ন বাজার পরিস্থিতি, ট্রেডিং সংকেত কিংবা অন্য ঝুঁকির উৎসের ওপর নির্ভর করতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে শূন্য সহসম্পর্কযুক্ত কৌশলে ক্ষতি হবে না।

আবার শেয়ারবাজার পড়লেই এই কৌশল লাভ করবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।

সম্ভাব্য সুবিধাটি অন্য জায়গায়:

এই কৌশলের রিটার্ন সব সময় শেয়ারবাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে না।

এটিও মনে রাখা জরুরি যে, সহসম্পর্ক 0-এর কাছাকাছি (r ≈ 0) হলেই 2টি সম্পদ সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়ে যায় না। তাদের মধ্যে অরৈখিক সম্পর্ক থাকতে পারে এবং চরম বাজার পরিস্থিতিতে উভয় বিনিয়োগেই একসঙ্গে ক্ষতি হতে পারে।
সম্পদের রিটার্নের ধনাত্মক সহসম্পর্ক, ঋণাত্মক সহসম্পর্ক ও শূন্যের কাছাকাছি সহসম্পর্ক বোঝাতে 3টি স্ক্যাটার প্লটের তুলনা।
ধনাত্মক সহসম্পর্কে (r > 0) রিটার্ন একই দিকে চলার প্রবণতা দেখায়। ঋণাত্মক সহসম্পর্কে (r < 0) বিপরীত দিকে চলার প্রবণতা থাকে। আর শূন্যের কাছাকাছি সহসম্পর্কে (r ≈ 0) স্পষ্ট রৈখিক সম্পর্ক দেখা যায় না।

যেসব বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে ইতিমধ্যে ব্রড মার্কেট ETF-এর বড় অংশ রয়েছে, তাদের জন্য ভিন্ন ধরনের রিটার্নের ধারা অনুসরণকারী সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ বৈচিত্র্যায়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কারণ বৈচিত্র্যায়নের লক্ষ্য সব বিনিয়োগকে সব সময় লাভজনক করা নয়।

বরং এমন পোর্টফোলিও তৈরি করা, যেখানে সব বিনিয়োগ একই বাজার পরিস্থিতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল নয়।

3. শেয়ার ও বন্ড থাকলেও কেন আরও বৈচিত্র্যায়ন দরকার হতে পারে?

আপনার পোর্টফোলিওতে যদি ইতিমধ্যে শেয়ার ETF এবং বন্ড ফান্ড থাকে, তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে—আরও বৈচিত্র্যায়নের প্রয়োজন কী?

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে শেয়ার ও বন্ডের সমন্বয় বহুদিন ধরেই একটি প্রচলিত সম্পদ বণ্টন কৌশল।

শেয়ার সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি মূলধন বৃদ্ধির সুযোগ দেয়। অন্যদিকে উচ্চমানের বন্ড সুদের আয় দিতে পারে এবং নির্দিষ্ট বাজার পরিস্থিতিতে পোর্টফোলিওর অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

কিন্তু শেয়ার ও বন্ড সব সময় একে অপরের ঝুঁকি সামাল দিতে পারে না।

মূল্যস্ফীতির আকস্মিক বৃদ্ধি, সুদের হারে দ্রুত পরিবর্তন কিংবা বাজারে তারল্য সংকট দেখা দিলে উভয় সম্পদই একই সময়ে চাপের মুখে পড়তে পারে।

অর্থাৎ শেয়ার ও বন্ড একসঙ্গে রাখলেও কিছু সাধারণ অর্থনৈতিক ঝুঁকি থেকে যায়।

এ কারণেই কিছু বিনিয়োগকারী প্রচলিত সম্পদের বাইরে রিটার্নের আরও উৎস খোঁজেন।

বিবেচনা করার মতো কয়েকটি কৌশল হলো:
  • মার্কেট-নিউট্রাল কৌশল (Market-Neutral Strategies): বাজারের সামগ্রিক ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী প্রবণতার প্রতি পোর্টফোলিওর সংবেদনশীলতা কমানোর চেষ্টা করে।
  • ট্রেন্ড-ফলোয়িং কৌশল (Trend-Following Strategies): বিভিন্ন বাজারে দামের প্রবণতা শনাক্ত করে ট্রেডিংয়ের সুযোগ খোঁজে।
  • মাল্টি-মার্কেট কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং: নির্ধারিত নিয়ম বা পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে একাধিক বাজারে ট্রেডিংয়ের সুযোগ শনাক্ত করে।
  • বিকল্প বিনিয়োগ (Alternative Investments): প্রচলিত শেয়ার ও বন্ডের তুলনায় ভিন্ন উৎস থেকে রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন সম্পদ বা কৌশল মূল্যায়ন করে।

এসব কৌশল ETF বা বন্ডের চেয়ে অবশ্যই ভালো কিংবা নিরাপদ, এমন নয়।

সব বিকল্প বিনিয়োগের সঙ্গে শেয়ারবাজারের সহসম্পর্ক কম থাকে, এমনও নয়।

তবে কিছু কৌশল ভিন্ন ট্রেডিং পদ্ধতি, বাজারের সুযোগ এবং ঝুঁকির উৎসের মাধ্যমে অতিরিক্ত রিটার্নের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

কার্যকর সম্পদ বণ্টনের উদ্দেশ্য কখনো ক্ষতি হবে না এমন বিনিয়োগ খুঁজে পাওয়া নয়। বরং এমন পোর্টফোলিও তৈরি করা, যার সফলতা একটি নির্দিষ্ট বাজার পরিস্থিতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল নয়।

4. কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল কীভাবে ETF পোর্টফোলিওর কার্যকারিতা বাড়াতে পারে?

সহসম্পর্কের ব্যবহারিক গুরুত্ব এখানেই।

পোর্টফোলিওর ঝুঁকি শুধু প্রতিটি বিনিয়োগ কতটা অস্থির, তার ওপর নির্ভর করে না।

বিনিয়োগগুলোর রিটার্ন একে অপরের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ধরা যাক, একটি পোর্টফোলিওতে 2টি সম্পদ রয়েছে।

সম্পদ A হলো ব্রড মার্কেট ETF এবং সম্পদ B হলো শেয়ারবাজারের সঙ্গে কম সহসম্পর্কযুক্ত একটি বিনিয়োগ কৌশল।

যদি সম্পদ B-এর প্রত্যাশিত রিটার্ন, ঝুঁকি ও খরচ গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে 2টি সম্পদ উপযুক্ত অনুপাতে একত্র করলে পোর্টফোলিওর সামগ্রিক অস্থিরতা কমতে পারে।

কেন?

কারণ 2টি বিনিয়োগ সব সময় একই মুহূর্তে লাভ বা ক্ষতি করে না।

একটির পারফরম্যান্স খারাপ হলে অন্যটি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে কিংবা ভিন্ন রিটার্নের ধারা অনুসরণ করতে পারে।

এই পার্থক্যই বৈচিত্র্যায়নের সুফলের অন্যতম ভিত্তি।

সহজ হিসাব: বৈচিত্র্যায়ন কীভাবে পোর্টফোলিওর অস্থিরতা কমায়?

ধরা যাক, সম্পদ A (ব্রড মার্কেট ETF) এবং সম্পদ B (কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল)—উভয়ের বার্ষিকীকৃত অস্থিরতা 20%।

একই সময়ের রিটার্নের মধ্যে সহসম্পর্ক সহগ শূন্য (ρ = 0)।

এখন পোর্টফোলিওর 50% সম্পদ A এবং বাকি 50% সম্পদ B-তে বরাদ্দ করলে পোর্টফোলিওর তাত্ত্বিক বার্ষিকীকৃত অস্থিরতা প্রায় 14.1%-এ নেমে আসে, যেখানে আলাদাভাবে যেকোনো একটি সম্পদ রাখলে অস্থিরতা 20%।

পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়নের কাল্পনিক উদাহরণ: 20% বার্ষিক অস্থিরতাসম্পন্ন ও শূন্য সহসম্পর্কযুক্ত 2টি সম্পদে সমান 50% বরাদ্দ দিলে তাত্ত্বিক অস্থিরতা প্রায় 14.1% হয়।
চার্টটি বৈচিত্র্যায়নের একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি দেখায়: সম্পদ A ও B শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক রিটার্ন দিলেও মাঝপথে উভয়ের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করতে পারে। কম সহসম্পর্কযুক্ত বিনিয়োগ একত্র করলে কাছাকাছি প্রত্যাশিত রিটার্ন বজায় রেখে পোর্টফোলিওর অস্থিরতা কমানোর সম্ভাবনা থাকে।

এটিই বৈচিত্র্যায়নের সুবিধা (Diversification Benefit)।

তবে চার্টে দেখানো প্রবৃদ্ধির রেখাগুলো কেবল ধারণা বোঝানোর জন্য তৈরি, বাস্তব বিনিয়োগের ফলাফল নয়। প্রকৃত ফল নির্ভর করে সম্পদের রিটার্ন, সহসম্পর্কের পরিবর্তন, বরাদ্দের অনুপাত, ট্রেডিং খরচ এবং অন্যান্য ঝুঁকির ওপর। কম সহসম্পর্ক থাকলেই লাভ নিশ্চিত হয় না।

ভালো বৈচিত্র্যায়ন মানেই বেশি মুনাফার নিশ্চয়তা নয়

ভিন্ন সম্পদ একত্র করার সুবিধাকে অনেক সময় রূপক অর্থে “1+1>2” বলা হয়।

কিন্তু এর মানে 2টি সম্পদে বিনিয়োগ করলে রিটার্ন দ্বিগুণ হবে, এমন নয়।

প্রকৃত লক্ষ্য হলো:

কাছাকাছি প্রত্যাশিত রিটার্ন বজায় রেখে পোর্টফোলিওর সামগ্রিক অস্থিরতা কমানোর চেষ্টা করা।

এতে ঝুঁকি-সমন্বিত রিটার্ন (Risk-Adjusted Returns) উন্নত হতে পারে। এই সূচক বিনিয়োগ থেকে পাওয়া রিটার্নের পাশাপাশি সেই রিটার্ন অর্জনে কতটা ঝুঁকি নেওয়া হয়েছে, তা বিবেচনা করে।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য শুধু মোট রিটার্ন নয়, অস্থিরতা ও সর্বোচ্চ পতন (Maximum Drawdown) পর্যবেক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে আকর্ষণীয় মনে হলেও বাজারে বড় পতনের সময় সেটি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

তাই নিজের ঝুঁকি সহ্যক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোর্টফোলিও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা অনুসরণ করা সহজ করতে পারে।

5. ETF বিনিয়োগকারীদের জন্য 3টি সম্পদ বণ্টন কৌশল

ধরা যাক, ব্রড মার্কেট ETF ইতিমধ্যে আপনার পোর্টফোলিওর মূল ভিত্তি।

আপনি দীর্ঘমেয়াদি শেয়ার বিনিয়োগের সম্ভাবনায় বিশ্বাস করেন এবং বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা মেনে নিতে প্রস্তুত।

সে ক্ষেত্রে কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল যোগ করার উদ্দেশ্য অবশ্যই সর্বোচ্চ রিটার্ন অর্জন নয়।

বরং আপনার পুরো পোর্টফোলিও যেন শুধু শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর না করে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা।

নিচের 3টি পোর্টফোলিও কাঠামো তুলনা করা যেতে পারে।

পোর্টফোলিও A: 100% ব্রড মার্কেট ETF

এই পদ্ধতি সহজ, স্বচ্ছ এবং সাধারণত তুলনামূলক কম খরচের।

এতে ETF যে শেয়ারবাজার অনুসরণ করে, সেই বাজারের পারফরম্যান্সে সরাসরি অংশ নেওয়া যায়।

তবে পোর্টফোলিওর প্রধান ঝুঁকি শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বড় বাজার সংশোধনের সময় পোর্টফোলিওতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিতে পারে।

পোর্টফোলিও B: ব্রড মার্কেট ETF + বন্ড

এ পদ্ধতিতে শেয়ারের পাশাপাশি আলাদা একটি সম্পদ শ্রেণি যোগ করা হয়।

উচ্চমানের বন্ড সুদের আয় দিতে পারে এবং নির্দিষ্ট বাজার পরিস্থিতিতে পোর্টফোলিওর অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে সুদের হারের ঝুঁকি, ঋণঝুঁকি এবং শেয়ার ও বন্ড একসঙ্গে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

পোর্টফোলিও C: ব্রড মার্কেট ETF + কম সহসম্পর্কযুক্ত কোয়ান্টিটেটিভ কৌশল

এই পদ্ধতিতে এমন একটি নিয়মভিত্তিক ট্রেডিং কৌশল যোগ করা হয়, যার রিটার্ন শেয়ারবাজারের গতিবিধির সঙ্গে তুলনামূলক কম সম্পর্কিত হওয়ার লক্ষ্য থাকে।

কৌশলটির সহসম্পর্ক কম থাকলে এবং ঝুঁকি ও রিটার্নের বৈশিষ্ট্য গ্রহণযোগ্য হলে সামগ্রিক পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়নের কার্যকারিতা উন্নত হতে পারে।

তবে কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিংয়েও মূলধন হারানো, মডেল ব্যর্থতা, তারল্য সংকট, লিভারেজ এবং ট্রেড কার্যকর করার ঝুঁকি রয়েছে।

ইতিহাসে কম সহসম্পর্ক দেখা গেলেও চরম বাজার পরিস্থিতিতে সেই কৌশল কার্যকর সুরক্ষা দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এই 3টি পদ্ধতির কোনো একটিকে সবার জন্য সেরা বলা যায় না।

এগুলো পরস্পরবিরোধীও নয়। বিনিয়োগকারীরা একই পোর্টফোলিওতে শেয়ার, বন্ড ও কোয়ান্টিটেটিভ কৌশল একত্র করার সম্ভাবনাও মূল্যায়ন করতে পারেন।
3টি কাল্পনিক পোর্টফোলিওর সর্বোচ্চ পতনের তুলনা: 100% ব্রড মার্কেট ETF-এ -32%, ETF ও বন্ডে -24% এবং ETF ও কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশলে -18%।
এই কাল্পনিক তুলনায় পোর্টফোলিও A (100% ব্রড মার্কেট ETF)-এর সর্বোচ্চ পতন −32%, পোর্টফোলিও B (ETF + বন্ড)-এর −24% এবং পোর্টফোলিও C (ETF + কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল)-এর −18% দেখানো হয়েছে।

উদাহরণটি বোঝায়, রিটার্নের ভিন্ন উৎস যোগ করলে বাজার পতনের সময় পোর্টফোলিওর ক্ষতির মাত্রা কমতে পারে। তবে এগুলো বাস্তব বিনিয়োগের ফলাফল নয়। প্রকৃত সুবিধা মূল্যায়নের জন্য ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

আপনার জন্য উপযুক্ত সম্পদ বণ্টন নির্ভর করবে বিনিয়োগের লক্ষ্য, ঝুঁকি সহ্যক্ষমতা, বিনিয়োগের মেয়াদ এবং পোর্টফোলিওতে প্রতিটি সম্পদের ভূমিকার ওপর।

6. ETF পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়নে কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিংয়ের ভূমিকা

আপনি যদি ইতিমধ্যে ব্রড মার্কেট ETF-তে বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আরেকটি শেয়ার ETF কেনাই সব সময় সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে।

বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে:

“শেয়ারবাজার না বাড়লেও রিটার্নের সুযোগ তৈরি করতে পারে, এমন কোনো কৌশল কি আমার পোর্টফোলিওতে দরকার?”

এই বিকল্প বিনিয়োগ দৃষ্টিভঙ্গিই Mr.Forex কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং কৌশলের মাধ্যমে তুলে ধরতে চায়।

শেয়ারবাজারের দিকনির্দেশনার বাইরে রিটার্নের সম্ভাবনা

Mr.Forex-এর কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং কৌশলগুলো প্রচলিত শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্স থেকে ভিন্ন উৎসের রিটার্ন দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি।

এ ক্ষেত্রে মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো কৌশলটির রিটার্নের সঙ্গে সামগ্রিক শেয়ারবাজারের রিটার্নের ঐতিহাসিক সহসম্পর্ক।

একই সময়কাল ও একই তথ্যের ব্যবধান ব্যবহার করে রিটার্ন তুলনা করলে সহসম্পর্ক সহগ 0-এর কাছাকাছি হওয়ার অর্থ হলো, ওই পর্যবেক্ষণকালে কৌশল ও শেয়ারবাজারের রিটার্নের মধ্যে স্পষ্ট রৈখিক সম্পর্ক দেখা যায়নি।

এ ধরনের কৌশল তাই প্রচলিত শেয়ার ETF-এর তুলনায় ভিন্ন বৈচিত্র্যায়ন বৈশিষ্ট্য দিতে পারে।

তবে সহসম্পর্ক স্থায়ী নয়।

বাজার পরিস্থিতি বদলে যায়। অতীতে কোনো কৌশলের সহসম্পর্ক কম থাকলেও ভবিষ্যতে তা একই থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ETF বাদ দেওয়া নয়, বরং পরিপূরক বিনিয়োগ খোঁজা

Mr.Forex মনে করে না যে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর বিদ্যমান ব্রড মার্কেট ETF বিক্রি করে পুরোপুরি কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিংয়ে চলে যাওয়া উচিত।

ETF দীর্ঘমেয়াদি পোর্টফোলিওর মূল ভিত্তি হিসেবেই থাকতে পারে।

অন্যদিকে কোয়ান্টিটেটিভ কৌশলকে রিটার্নের সম্ভাব্য অতিরিক্ত উৎস হিসেবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুধু একটি ট্রেডিং কৌশল আলাদাভাবে কত রিটার্ন করেছে, তা নয়।

বরং কৌশলটি বিদ্যমান ETF পোর্টফোলিওতে যোগ করলে সামগ্রিক ঝুঁকি ও রিটার্নের ভারসাম্য কতটা বদলায়।

যেমন:
  1. সমন্বিত পোর্টফোলিওর অস্থিরতা কি কমছে?
  2. সর্বোচ্চ পতনের মাত্রা কি উন্নত হচ্ছে?
  3. ঝুঁকি-সমন্বিত রিটার্ন কি বাড়ছে?
  4. ট্রেডিং খরচ বাদ দেওয়ার পরও কি এসব সুবিধা বজায় থাকছে?

সম্পদ বণ্টনে কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিংয়ের সম্ভাব্য ভূমিকা মূল্যায়নের জন্য এগুলোই বেশি অর্থবহ প্রশ্ন।

কোয়ান্টিটেটিভ কৌশলে বিনিয়োগের আগে যে 4টি সূচক দেখবেন

আপনি Mr.Forex কিংবা অন্য কোনো কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং সেবাদাতাকে মূল্যায়ন করুন না কেন, শুধু মোট রিটার্ন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট নয়।

এই 4টি বিষয় বিবেচনা করুন:
  • শেয়ারবাজারের সঙ্গে সহসম্পর্ক: কৌশলটির ঐতিহাসিক রিটার্ন শেয়ারবাজারের সঙ্গে কতটা একইভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং বিভিন্ন বাজার পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল ছিল।
  • সর্বোচ্চ পতন (Maximum Drawdown): পোর্টফোলিওর মূল্য ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে পরবর্তী সর্বনিম্ন অবস্থানে নামার সময় সবচেয়ে বড় শতাংশ পতন।
  • ঝুঁকি-সমন্বিত রিটার্ন: নেওয়া ঝুঁকির তুলনায় বিনিয়োগ কতটা রিটার্ন তৈরি করেছে।
  • ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের সময়কাল: কৌশলটি ভিন্ন বাজার পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে কি না এবং অর্থবহ মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য আছে কি না।

কম সহসম্পর্কযুক্ত কোনো কৌশল আপনার পোর্টফোলিওর জন্য উপযুক্ত কি না, তা নির্ধারণের আগে Mr.Forex-এর প্রকাশিত ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ও ঝুঁকির তথ্য পর্যালোচনা করুন।

উদ্দেশ্য শুধু একটি কৌশলের আলাদা রিটার্নের পেছনে ছোটা নয়, বরং বিদ্যমান বিনিয়োগের সঙ্গে সেটি কীভাবে কাজ করতে পারে, তা বোঝা।

7. ETF ও পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়ন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন 1: ব্রড মার্কেট ETF-তে বিনিয়োগ করলেই কি যথেষ্ট বৈচিত্র্যায়ন হয় না?

ব্রড মার্কেট ETF অনেক কোম্পানিতে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

তবে সামগ্রিক শেয়ারবাজারের ওঠানামার ঝুঁকি থেকেই যায়।

আরও বিস্তৃত বৈচিত্র্যায়নের জন্য বন্ড বা কম সহসম্পর্কযুক্ত অন্য বিনিয়োগ মূল্যায়ন করা যেতে পারে এবং সেগুলো পোর্টফোলিওর সামগ্রিক ঝুঁকি কমাতে কতটা সাহায্য করে, তা পরীক্ষা করা উচিত।

প্রশ্ন 2: বিনিয়োগে শূন্য সহসম্পর্ক বলতে কী বোঝায়?

শূন্য সহসম্পর্ক মানে 2টি সম্পদের রিটার্নের সহসম্পর্ক সহগ 0-এর কাছাকাছি।

অর্থাৎ তাদের ঐতিহাসিক রিটার্নের মধ্যে স্পষ্ট রৈখিক সম্পর্ক নেই।

তবে এর অর্থ সম্পদগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীন কিংবা ক্ষতির ঝুঁকিমুক্ত নয়।

প্রশ্ন 3: শূন্য সহসম্পর্ক কি ঋণাত্মক সহসম্পর্কের চেয়ে ভালো?

সব সময় নয়।

ঋণাত্মক সহসম্পর্কযুক্ত বিনিয়োগ কিছু বাজার পতনের ক্ষতি তুলনামূলক সরাসরি পুষিয়ে দিতে পারে। তবে সেই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে।

শূন্যের কাছাকাছি সহসম্পর্কযুক্ত বিনিয়োগ রিটার্নের ভিন্ন উৎস দিতে পারে।

উভয় ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত রিটার্ন, অস্থিরতা, খরচ ও চরম বাজার পরিস্থিতির ঝুঁকি একসঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি।

প্রশ্ন 4: কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং কৌশল কি সব সময় শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পর্কহীন?

না।

কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং হলো নির্ধারিত নিয়ম, পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল বা অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ট্রেডিং সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি পদ্ধতি।

কৌশলের ধরন অনুযায়ী শেয়ারবাজারের সঙ্গে ধনাত্মক, ঋণাত্মক বা কম সহসম্পর্ক থাকতে পারে।

প্রকৃত সহসম্পর্ক জানতে ঐতিহাসিক রিটার্নের তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে।

প্রশ্ন 5: কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল যোগ করলে কি পোর্টফোলিওর ঝুঁকি সব সময় কমে?

না।

ফলাফল নির্ভর করে কৌশলটির নিজস্ব অস্থিরতা, বিদ্যমান বিনিয়োগের সঙ্গে সহসম্পর্ক, বরাদ্দের অনুপাত এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর।

অতিরিক্ত অস্থির কোনো কৌশল শেয়ারবাজারের সঙ্গে কম সহসম্পর্কযুক্ত হলেও পোর্টফোলিওর সামগ্রিক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

এ ছাড়া স্বাভাবিক বাজারে অস্থিরতা কম থাকলেই চরম বাজার পরিস্থিতিতে বড় ক্ষতি এড়ানো যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

প্রশ্ন 6: ETF-তে বিনিয়োগের পাশাপাশি কোয়ান্টিটেটিভ কপি ট্রেডিং করা কি যুক্তিযুক্ত?

কিছু বিনিয়োগকারীর জন্য এটি উপযুক্ত হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা, বিনিয়োগের লক্ষ্য ও ঝুঁকি সহ্যক্ষমতার ওপর।

কোয়ান্টিটেটিভ কপি ট্রেডিং রিটার্নের ভিন্ন উৎস দিতে পারে। তবে এতে মূলধন হারানো, ট্রেড কার্যকর হওয়ার পার্থক্য এবং কৌশল ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

তাই অর্থ বিনিয়োগের আগে কৌশলটির কার্যপদ্ধতি, ট্রেডিং শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ভালোভাবে বোঝা জরুরি।

মূল প্রশ্ন আপনি ইতিমধ্যে ETF-তে বিনিয়োগ করেছেন কি না, তা নয়।

বরং নতুন কৌশলটি আপনার সামগ্রিক পোর্টফোলিওতে যুক্তিসংগত বৈচিত্র্যায়নের সুবিধা দিতে পারে কি না।

উপসংহার: প্রকৃত বৈচিত্র্যায়ন মানে শুধু আরও ETF কেনা নয়

দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ে তোলার জন্য ব্রড মার্কেট ETF অনেক বিনিয়োগকারীর কাছেই একটি কার্যকর ভিত্তি।

তবে শত শত কোম্পানির শেয়ার রাখা আর রিটার্নের একাধিক ভিন্ন উৎস নিয়ে একটি সত্যিকারের বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও তৈরি করা এক বিষয় নয়।

প্রথম পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারের ভেতরে ঝুঁকি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় পদ্ধতির লক্ষ্য হলো পুরো পোর্টফোলিওকে একই ধরনের বাজারঝুঁকির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া থেকে রক্ষা করা।

শেয়ার, বন্ড এবং কম সহসম্পর্কযুক্ত কোয়ান্টিটেটিভ কৌশল—প্রতিটিরই আলাদা ভূমিকা থাকতে পারে।

একটিকে অন্যটির বিকল্প হতেই হবে, এমন নয়।

বরং এগুলো একত্র করলে ঝুঁকি ও রিটার্নের মধ্যে আরও উপযুক্ত ভারসাম্য তৈরি হয় কি না, সেটিই মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

বুদ্ধিমানের মতো সম্পদ বণ্টন মানে শুধু সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দেওয়া বিনিয়োগ খোঁজা নয়। বরং নিজের সহ্যক্ষমতার সঙ্গে মানানসই ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক সম্পদের সমন্বয় তৈরি করা।

আপনার বিনিয়োগের মূল অংশ যদি ইতিমধ্যে ব্রড মার্কেট ETF-তে থাকে, তাহলে এমন কৌশলও বিবেচনা করতে পারেন, যার পারফরম্যান্স পুরোপুরি শেয়ারবাজারের দিকনির্দেশনার ওপর নির্ভর করে না।

আপনার ETF পোর্টফোলিওতে কম সহসম্পর্কযুক্ত কৌশল কী যোগ করতে পারে, জানুন

Mr.Forex-এর কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং কৌশলগুলোর ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স, শেয়ারবাজারের সঙ্গে সহসম্পর্ক এবং ঝুঁকির সূচক পর্যালোচনা করুন।

রিটার্নের ভিন্ন একটি উৎস আপনার বিদ্যমান ETF বিনিয়োগের পরিপূরক হতে পারে কি না, তা মূল্যায়ন করুন।



ঝুঁকি সংক্রান্ত সতর্কতা: এই নিবন্ধটি শুধু আর্থিক শিক্ষা ও সাধারণ তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ পরামর্শ বা মুনাফার নিশ্চয়তা নয়। এখানে ব্যবহৃত সব কাল্পনিক ও সিমুলেটেড তথ্য কেবল বিনিয়োগের ধারণা ব্যাখ্যা করার জন্য দেওয়া হয়েছে; এগুলো কোনো ট্রেডিং কৌশলের প্রকৃত পারফরম্যান্স নির্দেশ করে না। ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ও সহসম্পর্ক সহগ ভবিষ্যৎ ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না। কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং ও কপি ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগকৃত মূলধন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কৌশল, ট্রেডিং শর্ত, প্রযোজ্য ফি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করুন।